প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০২ (বৃহস্পতিবার)
১৫ মাস পরে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, কেম ন আছেন অভিনেতা

ইলিয়াস কাঞ্চন। ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১৫ মাস এর বেশি সময় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর সাময়িকভাবে দেশে ফিরছেন বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার একটি ধাপ শেষ হওয়ায় নিজের ইচ্ছাতেই কয়েক দিনের জন্য বাংলাদেশে আসছেন তিনি। তবে চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি; আগামী ১৫ আগস্ট নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকদের পরবর্তী মূল্যায়নের জন্য আবারও লন্ডনে ফিরতে হবে তাকে।

নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবারই তিনি দেশে পৌঁছাবেন।

 

ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার পর গত বছরের এপ্রিলে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও জটিলতার কারণে টিউমারের পুরো অংশ অপসারণ সম্ভব হয়নি। এরপর চিকিৎসকেরা ক্যানসার শনাক্ত করলে কেমোথেরাপি ও ওষুধভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরু হয়।

 

চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে বহুবার কেমোথেরাপি এবং পরবর্তী ওরাল থেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা চললেও শারীরিক অবস্থায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি আসেনি বলে জানিয়েছেন লিটন এরশাদ। তবে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে একটি ইতিবাচক বিষয় হলো, ক্যানসার এখন পর্যন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মেলেনি।

 

বর্তমানে ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা বলায় কিছুটা জড়তা রয়েছে। ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও অনেক সময় একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে তার কষ্ট হয়। নিয়মিত চিকিৎসার প্রভাব তার শারীরিক অবস্থাতেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণে নিজের পরিচিত পরিবেশে কিছুদিন কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়েই তাকে সাময়িকভাবে দেশে আনা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়েই চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন তিনি।

 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় এই অভিনেতা ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি একুশে পদকেও সম্মানিত হয়েছেন।