প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৪ (শুক্রবার)
ব্রাজিল প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর কী বার্তা দিচ্ছে?

কলকাতা থেকে ব্রাজিলে ফেরার পথে ঢাকায় নেমে পড়লেন ব্রাজিল ফুটবলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দর থেকে সোজা জাতীয় স্টেডিয়ামে—আয়োজনটা এতটাই আকস্মিক যে প্রশ্ন উঠতে দেরি হয়নি, আসলে কী খুঁজছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন?

 

৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের ভেন্যু আগেই ঘুরে দেখেছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। কলকাতা থেকে দেশে ফেরার পথে বিকেল ৩টার দিকে তারা হুট করে প্রবেশ করেন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। মাঠের ঘাস থেকে ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স থেকে গ্যালারি—কোনো কিছুই বাদ যায়নি খুঁটিয়ে দেখা থেকে। এমনকি ডাগআউট আর গ্যালারির চেয়ারে বসেও পরখ করেছেন পরিবেশ, যেন প্রতিটি কোণ মেপে নিতে চেয়েছেন নিজের চোখে।

সর্বশেষ বিশ্বকাপটা ভালো কাটেনি ব্রাজিলের। ছবি : এপি

আধ ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের সঙ্গী ছিলেন বাফুফের মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পেশাদার ভঙ্গিতে ইকবাল বললেন, ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী ব্রাজিল, এমনকি বাংলাদেশের বিপক্ষেও মাঠে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে দলটি। ‘ভারত ম্যাচের আগে ঢাকায় অনুশীলনের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু জানাননি ব্রাজিল প্রতিনিধিরা। ইকবালের ভাষায়, মাঠ ও স্টেডিয়ামের পরিবেশ দেখে নিজেদের ফেডারেশনকে প্রতিবেদন দেবে প্রতিনিধিদল। প্রয়োজনে মাঠ আরেকটু গুছিয়ে নিলে আরেকবার ফিরে আসারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধিদলের সদস্য।

 

স্টেডিয়াম পরিদর্শন সেরে হোটেলে কয়েক ঘণ্টার বিশ্রাম শেষে প্রতিনিধিদের রাতেই দেশ ছাড়ার কথা ছিল। মাঝে সন্ধ্যায় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা, যা এই সংক্ষিপ্ত সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে।

 

আসলে আলোচনার সুতোটা আরও লম্বা, আরও জটিল। ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ভারতের পথে রওনা দেওয়ার আগে ৩০ সেপ্টেম্বর বা ১ অক্টোবর ঢাকায় অনুশীলন-বিরতি নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও চলছে গুঞ্জন। অর্থাৎ শুধু একটি পরিদর্শনেই থেমে থাকছে না বিষয়টা, অস্ট্রেলিয়া থেকে সরাসরি ভারতে না গিয়ে মাঝপথে ঢাকায় থামার একটা সমীকরণও এখন আলোচনায়। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা অবশ্য রয়ে যাচ্ছে—ভবিষ্যতে সত্যিই কি বাংলাদেশের মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল? জাতীয় স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণ যেভাবে খুঁটিয়ে দেখলেন প্রতিনিধিরা, তাতে সম্ভাবনার আঁচ পাওয়া গেলেও এখনো তা নিছক জল্পনা। ফেডারেশনের ভেতরের আলোচনা, প্রতিবেদন আর সিদ্ধান্ত—এসব ধাপ পেরিয়ে তবেই স্পষ্ট হবে আসল ছবিটা। ততদিন ঢাকার ফুটবলপ্রেমীদের ভাগ্যে জুটবে শুধু অপেক্ষা, স্বপ্ন আর জল্পনার এক মিহি মিশেল।

ব্রাজিলের মতো ফুটবল-পরাশক্তির এমন আনুষ্ঠানিক আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য বিরল এক মুহূর্ত বইকি। মাঠ প্রস্তুতির প্রশ্নে বাফুফে কতটা দ্রুত সাড়া দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।