প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৪ (মঙ্গলবার)
সালমান মুক্তাদিরকে মিথ্যাবাদী রাখাল বালক বললেন আবিদুল

সালমান মুক্তাদির (বামে) ও আবিদুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

সালমান মুক্তাদিরকে মিথ্যাবাদী রাখাল বালক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সালমানের বক্তব্যকে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এ মন্তব্য করেন তিনি।

 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন আবিদুল ইসলাম খান।

 

ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, রাজধানীতে সম্প্রতি এমন একজনের আবির্ভাব হয়েছে, যিনি বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, এর আগে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমান মুক্তাদির নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশের তদন্তে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

এছাড়া ধর্ষণের একটি স্পর্শকাতর মামলা নিয়েও সালমান মনগড়া মতামত দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন আবিদুল। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় সালমানের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবিও করেন তিনি।

 

সর্বশেষ রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও সালমানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন আবিদুল ইসলাম খান।

 

তার অভিযোগ, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের ঘটনাকে সালমান বিএনপির চাঁদাবাজি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য এর সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

 

পুলিশ জানিয়েছে, নিউগিনি প্রপার্টিজের জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ডিএমপির কর্মকর্তারা বলেছেন, সালমানের স্টুডিও হামলার লক্ষ্য ছিল না এবং চাঁদাবাজির কোনো তথ্যও তখন পুলিশের কাছে ছিল না।

 

এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলায় হামলার নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে শাহরিয়ার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধটি নিউগিনি প্রপার্টিজ ও একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে।

 

আবিদুল ইসলাম খান অবশ্য দাবি করেন, ওই ঘটনায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার অভিযোগ, এরপরও সালমান ঘটনাটিকে বিএনপির চাঁদাবাজি হিসেবে প্রচার করেছেন।

 

এদিকে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিই সামনে এসেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।