একীভূত পাঁচ ব্যাংকই বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বও হস্তান্তর করা হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রশাসকদের। ফলে একীভূত হওয়া শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকই বুঝে পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে, গেল ৩০ জুন প্রথম ব্যাংক হিসাবে এক্সিমের দায়িত্ব বুঝে নেয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। পরে ৬ আগস্ট সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ১০ আগস্ট ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়া হয়।
আওয়ামী শাসনামলে একীভূত এই পাঁচটি ব্যাংকে তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় ছিল চট্টগ্রামের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস. আলম গ্রুপ। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক দখল করে সেই ব্যাংকের মালিকানায়ও যায় এস. আলম। আর এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংকের লুটপটের তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। বিতরণ করা ঋণের বড় অংশই খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছিল না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকে টাকা ধার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। তবে এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংককে নতুন প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় থাকছে সরকার। যদিও পরবর্তীতে ব্যাংকটির মালিকানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই মূলধনের ২০ হাজার কোটি টাকায় জোগান দিচ্ছে সরকার। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার জোগান আসবে আমানত বীমা তহবিল থেকে।
জাতীয় থেকে আরো পড়ুন