প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৩
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিনই নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ছবি, নথি কিংবা ব্যক্তিগত কথোপকথন আদান-প্রদান করা হয়। তাই ভুল করে কোনো চ্যাট ডিলিট হয়ে গেলে অনেকেরই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় মেসেজ বা ছবি হারিয়ে গেলে মনে হতে পারে, সেগুলো আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে ফোনে আগে থেকে ব্যাকআপ রাখা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই মুছে যাওয়া চ্যাট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত গুগল ড্রাইভ এবং আইফোনে অ্যাক্লাউডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ব্যাকআপ রাখা যায়। আগে থেকে ব্যাকআপ চালু করা থাকলে সেই ব্যাকআপ ব্যবহার করেই পুরোনো কথোপকথন ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।
এর জন্য প্রথমে ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে আবার ইনস্টল করতে হবে। এরপর আগের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করলে ব্যাকআপ শনাক্ত হওয়ার পর ‘রিস্টোর’ অপশন দেখা যেতে পারে। সেখানে চাপ দিলে ব্যাকআপে থাকা মেসেজ ও অন্যান্য ডেটা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করবে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে সময় চ্যাট ডিলিট হয়েছে, তার পর নতুন করে ব্যাকআপ তৈরি হয়ে গেলে আগের সেই মেসেজ ব্যাকআপে নাও থাকতে পারে। তাই চ্যাট হারানোর পর ব্যাকআপের সময় ও তারিখ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
গুগল ড্রাইভে ব্যাকআপ না থাকলেও কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পুরোনো লোকাল ব্যাকআপ ফাইল সংরক্ষিত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ফোনের ফাইল ম্যানেজার থেকে হোয়াটসঅ্যাপের ডাটাবেজ ফোল্ডারটি খুঁজে দেখতে পারেন।
সেখানে বিভিন্ন তারিখের ব্যাকআপ ফাইল থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো ফাইলটি ব্যবহার করে চ্যাট পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা যায়। ফাইলের নাম পরিবর্তনসহ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করার পর হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় ইনস্টল করে রিস্টোর করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
তবে লোকাল ব্যাকআপ ব্যবহারের নিয়ম হোয়াটসঅ্যাপের সংস্করণ ও ফোনের স্টোরেজ কাঠামোর ওপর কিছুটা নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো ফাইল পরিবর্তনের আগে প্রয়োজনীয় ডেটার আলাদা কপি রাখা ভালো।
ক্লাউড কিংবা লোকাল কোনো ব্যাকআপই না থাকলে মুছে যাওয়া হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন থার্ড-পার্টি রিকোভারি সফটওয়্যারের সাহায্য নেওয়ার কথা অনেকে ভাবেন। কিন্তু এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারে যথেষ্ট সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত তথ্য, ফোনের স্টোরেজ কিংবা অ্যাকাউন্টের গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি দিলে তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। উপরন্তু, কোনো থার্ড-পার্টি রিকোভারি টুলই ডিলিট হয়ে যাওয়া সব ডেটা ১০০ শতাংশ ফিরিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারের আগে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট যাতে হঠাৎ হারিয়ে না যায়, সেজন্য নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু করে রাখতে পারেন।
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথি বা মেসেজ থাকলে সেগুলোর আলাদা কপিও অন্য নিরাপদ জায়গায় রাখা ভালো। কারণ কোনও ব্যাকআপ না থাকলে ভুল করে ডিলিট হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুনরুদ্ধার করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন বা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে।
তাই গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন মুছে যাওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে কোনো অচেনা রিকোভারি অ্যাপ ব্যবহার না করে প্রথমেই হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ রয়েছে কি না, সেটি পরীক্ষা করুন।
সোস্যাল মিডিয়া থেকে আরো পড়ুন