প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:২৭
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রান্নায় এলপিজির ব্যবহার বাড়ছেই। তবে দেশ ভেদে সিলিন্ডারের আকার ও চাহিদা ভিন্ন। যেমন- ভারত ও নেপালে ১৪.২ কেজি এলপিজির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, অন্যদিকে পাকিস্তানে ১১.৮ কেজি। এদিকে শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ১২ কেজি আর বাংলাদেশে ১২ কেজি সিলিন্ডারের চাহিদা বেশি।
গত সোমবার ২২৩ টাকা বাড়িয়ে বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অথচ পাকিস্তানে এই মূল্য ১ হাজার ৫৮৩ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা, নেপালে ১ হাজার ৪২৬ টাকা এবং ভারতের কলকাতায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল সূত্রে দেখা যায়, ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দিল্লিতে ৯৪২ রুপি ও কলকাতায় ৯৬৮ রুপি। ডলার রুপি বিনিময় হার হিসেবে কলকাতায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম হয় দশমিক ৭১৮ ডলার। টাকা-ডলার বিনিময় হারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২ টাকা।
স্বল্প আয়ের ভোক্তাদের জন্য ভারত সরকার সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ রুপি ভর্তুকি দিয়ে থাকে। তবে বছরে এই সুযোগ সর্বোচ্চ চারবারের বেশি পাওয়া যায় না। ভর্তুকি মূল্যে সিলিন্ডার কেনার জন্য নাগরিকদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হয়। তবে ভর্তুকি ছাড়া মূল্য১ হাজার ৭২ টাকা।
এদিকে নেপালেও ভারতের মতো ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এই সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ নেপালি রুপি। বিনিময় হার হিসেবে যা বাংলাদেশী মুদ্রায় দাঁড়ায় ১ হাজার ৪২৬ টাকা।
শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাস সংস্থা সূত্রে দেখা যায়, এই সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬৫ রুপি। বিনিময় হার হিসাব করলে বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা।
পাকিস্তানেও এলপিজির দাম বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। দেশটির তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বলছে, ১১ দশমিক ৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৪৭০ রুপি। ১২ কেজিতে হিসাব করলে বাংলাদেশী মুদ্রায় দাম হয় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা।
তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অনেক সময় সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।চাহিদা বেড়ে গেলে বাংলাদেশের মতো স্থানীয় বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির নজির আছে এসব দেশে।
এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি সূত্রে জানা যায়, মূলত প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এলপিজি পরিবহনে জাহাজ ভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় দামে এত পার্থক্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতি টন এলপিজি পরিবহনে জাহাজ ভাড়া ২৫০ ডলার, অথচ ভারতের সর্বোচ্চ ৬৫ ডলার, পাকিস্তানে ৮০ ডলার আর শ্রীলঙ্কায় ৯৫ ডলার।
সারাদেশ থেকে আরো পড়ুন